বুড়িচংয়ে সাকুরা স্টিল মিলে বিস্ফোরনে নিহত-১, আহত-৪ বুড়িচংয়ে সাকুরা স্টিল মিলে বিস্ফোরনে নিহত-১, আহত-৪ – বাংলার জমিন

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

বুড়িচংয়ে সাকুরা স্টিল মিলে বিস্ফোরনে নিহত-১, আহত-৪

বুড়িচংয়ে সাকুরা স্টিল মিলে বিস্ফোরনে নিহত-১, আহত-৪

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাকুরা স্টিল মিলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সোমবার সকালে বিস্ফোরণে মনোয়ার হোসেন ওরফে কালু (৪২) নামে এক শ্রমিক কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আরো কমপক্ষে চার শ্রমিক আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের গোপনে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সমঝোতা করে লাশ গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে পাঠিয়ে দেয়।কোনো ধরনের সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই কীভাবে ঘটনা গোপন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শরীফপুর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সাকুরা স্টিল মিলটির অবস্থান। ২০০৫ সালে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে এটি স্থাপন করা হয়।সোমবার আনুমানিক ভোর পৌনে ৬টায় চালু অবস্থায় মিলটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিকট আওয়াজে আশপাশের লোকজন ঘুম থেকে জেগে উঠে বিস্ফোরণস্থল স্টিল মিলের দিকে ছুটে যায়। বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় কালু, মনোয়ারসহ চার-পাঁচ শ্রমিক।মিলে কর্তব্যরত শ্রমিকরা তখন আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কালু নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।মিলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানায়, দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের লোকজন আহতদের চিকিৎসাসহ ঢাকায় কর্মরত নিহতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কুমিল্লা নিয়ে আসে।

পরে নগদ কিছু অর্থ সহায়তা দিয়ে পরিবারের লোকজনসহ গাড়ি করে লাশ লালমনিরহাট গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এদিকে কোনো সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই লাশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে নানা গুঞ্জন উঠেছে।বিস্ফোরণের বিষয়টি অস্বীকার করে সাকুরা স্টিল মিলের ম্যানেজার কাজী শামিম জানান, কর্তব্যরত অবস্থায় বুকে ব্যথার এক পর্যায়ে কালুকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে মারা গেছে। পরে দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের এনে লাশ গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। এ সময় কোন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে বিকেলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করলে সেখানে কোনো বিস্ফোরণে দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়নি বলে জানানো হয়।বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বস জানান, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনে সেখানে পুলিশ পাঠাই। এখন আমি নিজেই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *